সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৭ সেপ, ২০২৬

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: যা রয়েছে এই ৩ আইনে

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: যা রয়েছে এই ৩ আইনে

ফাইল ছবি
বিরোধীদলের তীব্র প্রতিবাদ, বিরোধিতা ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আইন মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত এবং অপরটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগস্বত্ব বজায় রেখে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান-সংক্রান্ত।

মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আনীত বিল দুটিকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে আজ রোববার রাতে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। পরে তৃতীয় বিল পাসের সময়ও তারা আপত্তির কথা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।বিরোধীদলের এসব আপত্তির মধ্যেই বিলগুলো পাস করা হয়।

যা রয়েছে এই ৩ আইনে:

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন:
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এ ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের জন্য নতুন আইন করা হয়েছে।

এ আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকবেন। এতে জাতীয় সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য একটি নির্বাচন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।

আইনে কমিশনের এখতিয়ার স্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক হুমকি থেকে সুরক্ষা এবং আরও ক্ষতি প্রতিরোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ (এনপিএম) ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ইউনিট নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কাজ করবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন:
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই আইনে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র এ ব্যয় বহন করবে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ ব্যক্তির সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

বইনে গুমের ঘটনা নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এই আইনে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়নি। এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন:
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

এই সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল' পাস: সংসদে বিতর্ক

দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল' পাস: সংসদে বিতর্ক

ফাইল ছবি
নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনি অধিকার পাবেন—এমন বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।

এদিকে বিলটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে বিরোধী দল আপত্তি জানায়। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।

যে বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে: নতুন বিলে আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। পিতা-মাতা বা পিতামহ/মাতামহ কর্তৃক তার সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে, সম্পত্তির ভোগাধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

বিরোধী দলের বক্তব্য: বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য: আইনমন্ত্রী বলেন: বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরেরে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। 

তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।
বিল পাসের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে তার কোনো প্রশ্ন নেই। এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্ট ‘কন্ট্রাডিকশন’ আছে বলে দাবি করেন তিনি। 

বিরোধীতার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে মুসলিম আইনকে স্পর্শ করা হয়নি। এই আইনে যে ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।  এবং সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিল আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম


৪ সেপ, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

কোলাজ ছবি 
জাতীয় সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ কতিপয় ইতিবাচক সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মৌলিক জায়গাগুলোতে গুরুতর ঘাটতি রয়েই গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গুমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্ত সুনিশ্চিত করতে বিল দুটি পাসের আগে সংসদে সব দলের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ফলে মানবাধিকার কমিশন বিলে আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা, ঋণখেলাপিদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণা এবং সামরিক আটককেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য আটককেন্দ্রে পরিদর্শনের পূর্বে পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। তবে মূল সংস্কারগুলো এড়িয়ে চলায় একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রত্যাশা আবারও হতাশায় রূপ নিচ্ছে।''

তিনি বলেন, ''বাছাই কমিটিতে স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সচিবদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাব বহাল রাখা হয়েছে। উপরন্তু, কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার অভাব কমিশনকে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় করে রাখবে।''

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, খসড়া আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না; বরং অভিযুক্ত বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক 'প্যারিস নীতিমালা' এবং ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের চেয়ও দুর্বল বিধান। একইভাবে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলেও জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা হয়নি।''
তিনি বলেন, ''খসড়া আইনের ১৪(৩) ধারায় অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজস্ব সদস্যের তদন্ত করা থেকে বিরত রাখার কথা বলা হলেও, অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।''

অতীতে বহু গুমের ঘটনায় গোয়েন্দা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তঃসংযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় এই বিধানকে 'কসমেটিক পরিবর্তন' বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''আন্তর্জাতিক সনদ (আইসিপিপিইডি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমের সংজ্ঞায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম স্পষ্ট না করা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া এবং পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের তুলনায় গুমের সাজা কমানোর বিষয়টিও টিআইবি উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে।''

তিনি বলেন, ''বিশেষ করে গুমের জন্য ন্যূনতম সাজা তিন বছর নির্ধারণ করা সত্ত্বেও 'মিথ্যা বা হয়রানিমূলক' অভিযোগের নামে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে।''

তাই তড়িঘড়ি করে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস না করে প্যারিস নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক অর্থবহ সংশোধনের পরই তা পাস করার তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। অন্যথায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষার প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: টিআইবি'র প্রেস বিজ্ঞপ্তি (০৩.০৯.২০২৬)

৩১ আগ, ২০২৬

সংসদের ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ পুনর্গঠন

সংসদের ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ পুনর্গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। পরে সংসদে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

পুনর্গঠিত চারটি কমিটি হলো— আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

পুনর্গঠনের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরকে। কমিটির সদস্যরা হলেন, মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, ইমরান আহমদ চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান রাজীব প্রধান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আকতার হোসেন, তাসমিয়া প্রধান।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৮ আগ, ২০২৬

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

কোলাজ ছবি
সন্তানকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজ বাড়ি থেকেই বিতাড়িত হওয়া অথবা অসহায় হওয়ার ঘটনার বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশের আদালতগুলোতে এমন মামলার ঘটনাও অহরহ দেখা যায়।

বর্তমানে প্রচলিত "দ্যা ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২" অনুযায়ী, কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছেই চলে যায়। যে কারণে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন।

প্রস্তাবিত "সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬" এ আনা নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তি দান করলেও দাতা জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনের ফলে মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। তবে আইনটি পাস হলে দ্রুত এর বাস্তবায়ন চান পরিবারের সদস্যরা।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য ‘ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করেন।

বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলটি পাশ হলে যে যে পরিবর্তন আসবে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে:

১. আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধরন থাকলেও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
 
২. প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

৩. নতুন এ ব্যবস্থা প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এসব বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো বিরোধও সৃষ্টি করবে না।

৪. প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি দান করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তি হলে নিবন্ধিত দলিল করতে হবে।

৫. নতুন এই আইনে মালিকানা ও ভোগের অধিকার আলাদা থাকবে। ধরা যাক, কোনো বাবা তার বাড়ি সন্তানের নামে লিখে দিলেন। দলিল নিবন্ধনের পর মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যাবে। তবে দলিলে 'জীবনকালীন ভোগাধিকার' সংরক্ষিত থাকবে। এতে বাবা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই বাড়ি ব্যবহার বা ভোগ করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর সেই অধিকার শেষ হবে।

৬. দাতার আগে গ্রহীতা দাতার জীবদ্দশায় মারা গেলেও দান বাতিল হবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে। তবে দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে। অর্থাৎ সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর সন্তান আগে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির মালিক হবেন, কিন্তু মূল দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তার ভোগাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

৭. প্রস্তাবিত বিলের ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে করা দান নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় হবে। দাতা একতরফাভাবে সেটি বাতিল করতে পারবেন না। তবে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সম্মত হলে নিবন্ধিত নতুন দলিলের মাধ্যমে দান পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে এই সুযোগ ব্যবহার করা যাবে।

৮. দাতা বা গ্রহীতার একজনের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলেও পরিবর্তন বা বাতিলের একটি পথ রাখা হয়েছে। কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে, নিখোঁজ থাকলে, মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে অক্ষম হলে, আইনি অক্ষমতা থাকলে বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে অপর পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দানের শর্ত পরিবর্তন, বাতিল বা সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন জেলা জজ। তবে আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে। আদালত প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করবে এবং আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্তুষ্ট হতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪


২৬ আগ, ২০২৬

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, থাকছে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, থাকছে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

ফাইল ছবি
গবাদি পশুর জেনেটিক উন্নয়ন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন, দেশীয় প্রাণিজ জেনেটিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন-২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এই পরিমার্জিত খসড়াটি এর উপর সর্বসাধারণের মতামত প্রদানের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এই আইনে যা থাকছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন-২০২৬’-এর খসড়ায়:
১. প্রজনন কার্যক্রমকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
২. গবাদি পশুর প্রজনন ষাঁড় নির্বাচন, সিমেন উৎপাদন, ভ্রূণ স্থানান্তর, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ), জিনোমিক নির্বাচন, জাত নিবন্ধন, জেনেটিক মূল্যায়ন, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি এবং কৃত্রিম প্রজননসহ সহায়ক সব প্রযুক্তি এ আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
৩. বৈধ নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গবাদি পশুর সিমেন, ভ্রূণ কিংবা ডিম্বাণুর উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি বা কেনা-বেচা করতে পারবে না। সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার নির্ধারিত প্রজনন মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
৪.  নিবন্ধিত সেবার ধরন বা গুণগতমান নিয়ে বিভ্রান্তিকর কিংবা ভুয়া তথ্য দিয়ে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. আইন কার্যকর হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কোনো বুল স্টেশন, ভ্রূণ প্রতিস্থাপন কিংবা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ল্যাবরেটরি স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না। একইসঙ্গে কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (এআইটিআই) এবং গবাদি পশুর প্রজননে সহায়কের ভূমিকা রাখা সব ধরনের প্রযুক্তি (এআরটি) সেবা প্রদানকেও এ নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।
৬. বুল স্টেশন, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, আইভিএফ ল্যাব ও সিমেন ব্যাংকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ আগ, ২০২৬

হালাল সনদ দিতে পারবে ধর্ম মন্ত্রণালয়, আইনি ভিত্তি প্রদান

হালাল সনদ দিতে পারবে ধর্ম মন্ত্রণালয়, আইনি ভিত্তি প্রদান

ছবি: সংগৃহীত 
হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি পেল ধর্ম মন্ত্রণালয়। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে যুক্ত করেছে সরকার। রবিবার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করেছেন। গত ১৯ আগস্টে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালাল মান ও সনদ-সংক্রান্ত বিষয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনের মাধ্যমে ‘রুলস অব বিজনেস’-এর সিডিউল-১—বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত তালিকায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ‘৩৪. মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের আইটেম নম্বর ২২-এর পর নতুন আইটেম নম্বর ২৩ সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন আইটেমে যুক্ত করা হয়েছে—‘ম্যাটার্স রিলেটিং টু হালাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’। অর্থাৎ হালাল পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ ও সনদ প্রদানের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় এলো। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশোধনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লখ্য, এতদিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হালাল সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। হালাল মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।নতুন সংশোধনের ফলে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সনদ প্রদানের দায়িত্ব সরকারের কার্যবণ্টন কাঠামোয় স্পষ্টভাবে যুক্ত হলো। এর মাধ্যমে দেশে হালাল পণ্য ও সেবার মান ও সনদসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (২৩.০৮.২০২৬)

৩ আগ, ২০২৬

সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় ভোগদখলের অধিকার থাকবে: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় ভোগদখলের অধিকার থাকবে: মন্ত্রিসভায় অনুমোদন


ছবি: সংগৃহীত

সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার পাবেন দাতা। আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বৈঠকে আইন ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবিত দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, ১৮৮২-এর দাতা কর্তৃক জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান-সংক্রান্ত বিধান সংযোজনের লক্ষ্যে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়া আইন প্রণয়নপূর্বক মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।


বিদ্যমান আইনে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি কর্তৃক সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করেও নিজ জীবদ্দশায় তা ভোগ-ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা অর্জন সম্ভব হচ্ছিল না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট রূপ ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম 

সূত্র: বাসস

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত হতে যাওয়া এই আইনের খসড়ায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়ায় গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও ওই ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে না পাওয়া গেলে অভিযুক্তের জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।


আইনটির লক্ষ্য মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।


খসড়া আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের উদ্যোগ, অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও বিচার পরিচালনার সুযোগ, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকারও আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।


এছাড়া সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক তহবিল গঠন, দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা এবং তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের উদ্দেশ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও আইনে যুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম 

সূত্র: বাসস 



৩১ জুল, ২০২৬

সাইবার আইনে সংশোধন: গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

সাইবার আইনে সংশোধন: গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
পাস হওয়ার তিন মাসের মাথায় নতুন ধারা যুক্ত করে সরকার আবারও সংশোধন করতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’। গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানিকর তথ্য—এ চারটি শব্দকে অপরাধের সংজ্ঞায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে; একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও।  

একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বিলটি সংসদের আগামী অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।

খসড়া সংশোধনী মতে, সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ কিংবা প্রচারকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো

২৪ জুল, ২০২৬

সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল: ফাইল ছবি
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিকাল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এ কারণে স্পিকার পদ শূন্য হয়ে যায়। একইভাবে সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে তার স্থলে দায়িত্ব পান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আপনারা জানেন যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার সাহেব তিনিও যখন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেন।’

তিনি জানান, শপথের অংশে বর্ণিত থাকে, কোনও কারণে যখন স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে, তখন ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদের ৩ দফায় বলা হয়, স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা তিনি রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করলে কিংবা অন্য কোনও কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলে সংসদ নির্ধারণ করলে স্পিকারের সব দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করবেন, কিংবা ডেপুটি স্পিকারের পদও শূন্য হলে সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি-অনুযায়ী কোনও সংসদ-সদস্য তাহা পালন করবেন; এবং সংসদের কোনও বৈঠকে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোনও সংসদ-সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ জুল, ২০২৬

মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত 

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা লেনদেনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল’ পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়। নতুন এই সংশোধনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে সরাসরি মাদক উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু রয়েছে। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে এবার আইনে নতুন ধারা যুক্ত করা হলো।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচার, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ বা মধ্যস্থতা করা এখন থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল সম্পদের ব্যবহারও শাস্তিমূলক অপরাধের আওতায় পড়বে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান। তবে এই অপরাধ যদি কোনো আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ঘটে, সেক্ষেত্রে আসামিদের যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।

ডিজিটাল অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতেও এই বিলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন করতে পারবে এবং তাদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখে মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৯ জুল, ২০২৬

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, 'সংসদ সদস্য যে দুটি আইন এনেছেন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইন রয়েছে। আমরা এই সংসদের চলতি অধিবেশনেই জুয়া আইন, ২০২৬ বিল পাস করেছি। আর ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও বিদ্যমান। ওই আইনের ধারা ২-এর উপধারা (৫), উপধারা (২৪), উপধারা (২৯) এবং ধারা ১১ পড়লে তিনি যে উদ্দেশ্যে বিলটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনের আওতায় পড়ে। তাই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে অনুরোধ করছি।' 

এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, 'যেহেতু সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিল দুটি আর উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, সেহেতু বিলগুলো আমি ভোটে দিচ্ছি না।'

মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মদ ও জুয়ার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি রোধ এবং তরুণ ও যুবসমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় প্রচলিত ময়নাতদন্ত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি নিহত হলে তাঁর মরদেহের যথাযথ হেফাজত, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী মৃতদেহের ক্ষেত্রে পর্দা ও মর্যাদা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আইন সংশোধনের মাধ্যমে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, নারীর মর্যাদা রক্ষা ইসলামসহ সব ধর্মেরই নির্দেশনা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও সড়ক, নৌ ও রেলপথে এখনো দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যমান আইনে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায় তা ছাড়া দাফন বা সৎকার করা যায় না।

বিলে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক সময় ময়নাতদন্তে মামলার নিষ্পত্তিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা থাকে না। তাই নিহত ব্যক্তির অভিভাবক বা নিকটাত্মীয়ের আবেদনের ভিত্তিতে, প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের জন্য বিলটি আনা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন পাশ

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন পাশ

ছবি: সংগৃহীত 

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি ও অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রেখে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন এই আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ ও যেকোনো প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।  আইনে ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপরাধীচক্র গঠন বা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৩ জুল, ২০২৬

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

ছবি: সংগৃহীত 

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সরকার নতুন আইন কার্যকর করেছে। প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ বাতিল করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে নতুন আইন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন ও স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ও ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার এবং জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।

এছাড়া অনলাইন বেটিং পরিচালনা, বুকমেকার হিসেবে কাজ করা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল কার্যক্রমে অংশ নেওয়া গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে, সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি, হাওলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনেও বিচার করা যাবে।

আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারবেন। জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার বা সার্ভার অবকাঠামোও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

কোনো কোম্পানি, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করা হবে। আদালত প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশও দিতে পারবেন।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে জব্দ করতে পারবেন।

অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ,

এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তি ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, নির্বাচন কমিশন, সিআইডি ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকরের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলের প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলো। তবে, পুরোনো আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলো নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ জুন, ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

সব ধরনের জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে আধুনিক ও সময়োপযোগী এই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিলটি যাচাই-বাছাই করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ মাত্রার শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে এই সাজা বেড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ এতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য অনূর্ধ্ব সাত বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেড় শতাব্দীর পুরোনো আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।

তাছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে আইনটি যুগোপযোগী করার প্রস্তাব এসেছিল। সংবিধানেও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৯ জুন, ২০২৬

জুয়া প্রতিরোধ ও পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনসহ ৪ আইনের খসড়া অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

জুয়া প্রতিরোধ ও পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনসহ ৪ আইনের খসড়া অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

ছবি: সংগৃহীত 

‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’সহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি আইনের খসড়া ও সংশোধনীর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনুমোদিত ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করে অত্যন্ত যুগোপযোগী করা হয়েছে। নতুন এই আইনে ঐতিহ্যগত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে বাজি ধরা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এতে কঠোর অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই বৈঠকে পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস ও জাল সনদ তৈরি রোধে ‘The Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। এই সংশোধনীতে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকা হ্যাকিং ও অবৈধ পরিবর্তনকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামক নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকছে।

অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে—২০০১ সালের অধীরতা কাটিয়ে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’কে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন। এর ফলে এখানে কলা, বাণিজ্য, আইন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ সব শাখার দ্বার উন্মুক্ত হবে। পাশাপাশি, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন, সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচা রোধ, সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং মাদক শনাক্তে বিশেষ ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের নতুন আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে বিলগুলো দ্রুতই সংসদে বা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

বাতিল হলো সংসদে প্রবেশ ও ত্যাগের সময় মাথা নত করার প্রথা

বাতিল হলো সংসদে প্রবেশ ও ত্যাগের সময় মাথা নত করার প্রথা

ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদে প্রবেশের বা ত্যাগের সময় মাথা নিচু করে বা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর প্রচলিত প্রথাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধনের মাধ্যমেই এই নিয়মটি বাতিল করা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারে মাথা নোয়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য মেনে সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন। এর আগে ত্রয়োদশ বা অষ্টম সংসদে পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে এই নিয়মটি কার্যপ্রণালি বিধি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৫ জুন, ২০২৬

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত 

ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থকে সভাপতি করে জাতীয় সংসদে আজ রোববার (১৪ জুন) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি (বরগুনা-২) কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, এ এম মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মো. নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), শাকিলা ফারজানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৮), মো. মনজুরুল ইসলাম (দিনাজপুর-১), মো. হাসান রাজীব প্রধান (লালমনিরহাট-১), মো. নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), আক্তার হোসেন (রংপুর-৪) ও আল ফারুক আব্দুল লতিফ (নীলফামারী-২)। পদাধিকার বলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১১ জুন, ২০২৬

আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কি না, ২ অ্যামিকাস কিউরির মত নেবেন আপিল বিভাগ

আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কি না, ২ অ্যামিকাস কিউরির মত নেবেন আপিল বিভাগ


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে মতামত দিতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মনোনয়ন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন, এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর আপিল আবেদন শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুন পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি নিয়ে এ দিন ঠিক করেন। আদালতে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম শুনানি করেন।

শুনানি শেষে রোকন উদ্দিন মো. ফারুক বলেন, আদালত আপিলের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুন পরবর্তী দিন রেখেছেন। আদালত আইনি মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে মনোনীত করেছেন।

গত মঙ্গলবার (৯ জুন) আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকটির করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। ওইদিন প্রথমদিনের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের শুনানি হয়।

গত ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে অভিযোগকারী পক্ষ। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ফিরে পান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও তার ফলাফল প্রকাশ উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। সেই আবেদন গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সফল হন তবে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশ এ সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম